৩৩৬ কোটি টাকার হাতছানি, তবু নিস্তব্ধ কোম্পানীগঞ্জের হাইটেক পার্ক
Led Bottom Ad

৩৩৬ কোটি টাকার হাতছানি, তবু নিস্তব্ধ কোম্পানীগঞ্জের হাইটেক পার্ক

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৭/০৪/২০২৬ ১৯:১২:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ১৬৩ একর জমির ওপর ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে চোখ ধাঁধানো অবকাঠামো। প্রশস্ত রাস্তা, পরিকল্পিত প্লট আর সুউচ্চ ভবন—সব মিলিয়ে একটি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের পূর্ণ অবয়ব দাঁড়িয়ে থাকলেও ভেতরে কেবলই নিস্তব্ধতা। উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সেই লালিত স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর পার্কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। লক্ষ্য ছিল এটি হবে সিলেট অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত আটটি প্রতিষ্ঠান জমি এবং তিনটি প্রতিষ্ঠান স্পেস বরাদ্দ নিলেও উৎপাদনে গেছে মাত্র একটি। আর সেই প্রতিষ্ঠানটিও ধুঁকছে নানামুখী সংকটে।

পার্কের একমাত্র সচল প্রতিষ্ঠান র‍্যাংগস ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের এজিএম মোরশেদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের নির্বিঘ্ন নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনোটিই নিরবচ্ছিন্নভাবে পাচ্ছি না। লাইনে গ্যাস না থাকায় সিলিন্ডার দিয়ে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে চললে আমাদের বিকল্প পথ দেখতে হবে।”

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ২০১৭ সালে ১২টি জেলায় আইটি পার্ক স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছরে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি মাত্র ৩৬ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার সিলেটসহ চারটি জেলার প্রকল্প বাতিলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলেও সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পরিদর্শনের পর নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পার্কের বর্তমান অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “পুরো বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে এটিকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়।”

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ফরহাদ রাব্বি বলেন, “কেবল অবকাঠামো তৈরি করলেই বিনিয়োগকারী আসে না। তাদের আস্থায় আনতে ট্যাক্স ছাড়, সহজ অনুমোদন এবং স্থিতিশীল ইউটিলিটি সরবরাহের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। সিলেটের জন্য স্থানীয়ভাবে প্রযোজ্য আলাদা পরিকল্পনা থাকা দরকার।”

তবে পার্কটিকে সচল করতে সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট হাইটেক পার্কের সহকারী পরিচালক এস এম আল মামুন। তিনি জানান, কমিটির সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও ইউটিলিটি সংকট দূর করা গেলে দ্রুতই পার্কটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad