হাইকোর্টে রিটের প্রস্তুতি
হবিগঞ্জে ব্যারিস্টার সুমনের বরাদ্দের ৫০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে কারাবন্দি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের নামে বিশেষ বরাদ্দকৃত প্রায় ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থের হিসাব জানতে চেয়ে সম্প্রতি ব্যারিস্টার সুমন জেল থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যারিস্টার সুমন এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম ফয়সাল ও কয়েকজন অসাধু ঠিকাদার মিলে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে এই বিশাল অংকের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এমপি কোটায় চা শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট, সেলাই মেশিন সরবরাহসহ বিভিন্ন রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে কোনো টেন্ডার বা পিআইসি কমিটি গঠন ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক আনিসুর রহমান রতন এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী অব্যবহৃত অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত না পাঠিয়ে যোগসাজশের মাধ্যমে পকেটস্থ করা হয়েছে।
স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এস.এ সাজন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ব্যারিস্টার সুমন চলে যাওয়ার পর কারা এই সরকারি টাকা উত্তোলন করল? তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে জেলে পাঠানো উচিত।”
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক এরশাদ আলী জানান, বিষয়টি একটি গুরুতর অনিয়ম এবং দুদক আগে থেকেই এই অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা পেলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে। অন্যদিকে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি.এম. সরফরাজ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাধবপুরের সাধারণ মানুষ এই নজিরবিহীন দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: