ভারী ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি
হবিগঞ্জের সুতাং নদী এখন বিষের আধার
হবিগঞ্জের এক সময়ের প্রমত্তা সুতাং নদী এখন ভয়াবহ দূষণে মৃতপ্রায়। শিল্পবর্জ্য আর অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নদীটির পানি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পরিচালিত দুটি পৃথক গবেষণায় সুতাং নদীর পানি ও মাছে আশঙ্কাজনক মাত্রায় বিষাক্ত ভারী ধাতু এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা নেমে এসেছে মাত্র ২.৪৭ পিপিএম-এ, যেখানে জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ৫ পিপিএম অক্সিজেন প্রয়োজন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারী ধাতুর উপস্থিতি; পরীক্ষায় পানিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি লেড (সীসা), ৮ গুণ আয়রন এবং উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্যাডমিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া গেছে। এসব উপাদান জলজ প্রাণীর মাধ্যমে সরাসরি মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে করা অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার পানিতে ৬ থেকে ৪৬টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে। এমনকি নদী থেকে ধরা মাছের শরীরও এখন নিরাপদ নয়। সংগৃহীত ৩০টি মাছের পরিপাকতন্ত্র পরীক্ষা করে ৫১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যার অর্থ প্রতিটি মাছে গড়ে প্রায় দুটি করে প্লাস্টিক কণা বিদ্যমান।
গবেষক দলের প্রধান ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাকির আহমেদ জানান, শিল্পবর্জ্য যেখানে সরাসরি মিশছে, সেখানে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব নেই। অ্যাকুয়াটিক রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক ইফতেখার আহমেদ ফাগুন সতর্ক করে বলেন, “এই বিষাক্ত পানি দিয়ে সেচ দেওয়া জমির ধানেও ভারী ধাতু জমা হচ্ছে। ফলে এই চাল যারা গ্রহণ করবেন, তারা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন।” পরিবেশবাদীদের মতে, শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর শিল্পাঞ্চলের অপরিকল্পিত বর্জ্য নিঃসরণই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সুতাং নদী ও এর আশপাশের জনপদ এক ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: