মৌলভীবাজারে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা শুরু

দিঘীর পাড়ে ভক্তদের মিলনমেলা

মৌলভীবাজারে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

১৪/০৪/২০২৬ ১১:৫৭:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ছয়চিরী দিঘীর পাড়ে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা। দুই দিনব্যাপী এই পূজা ও মেলা আগামী ১৫ এপ্রিল বুধবার সমাপ্ত হবে। চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চড়কপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে মূলত দুই দিন আগে থেকেই। পূজারীরা শ্মশানে পূজা-অর্চনা শেষে গৌরীর বিয়ে, গৌরী নাচ ও বিভিন্ন লোকজ গানের মাধ্যমে এলাকা মুখরিত করে তোলেন। উৎসবের প্রথম দিন নিশি রাতে তান্ত্রিক মন্ত্রের মাধ্যমে জ্বলন্ত ছাইয়ের ওপর ‘কালীনাচ’ পরিবেশন করা হয়, যা এই পূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এরপর তান্ত্রিক মন্ত্রবলে শিব শয্যা ও কালীর অদ্ভুত রূপ ধারণ করার দৃশ্য উপস্থিত দর্শকদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেয়।

আজ সকালে পূজারীরা ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরী দিঘী থেকে আগের বছর ডুবিয়ে রাখা প্রায় ১০০ ফুট লম্বা চড়কগাছটি উত্তোলন করেন। দিঘীর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে খাড়াভাবে পোঁতা এই গাছের মাথায় বাঁশ ও রশি বেঁধে বিশেষ মাচা তৈরি করা হয়। বিকেলে ভক্তরা বিশালাকৃতির দা (বলিছেদ) নিয়ে নৃত্য এবং শরীরচর্চার নানা কসরত প্রদর্শন করবেন। এরপর মূল সন্ন্যাসীরা নিজেদের জিহ্বা ও গলায় লোহার শিকল বিদ্ধ করে এবং পিঠে বড়শি গেঁথে চড়কগাছে ঝুলে শূন্যে ঘুরতে থাকবেন। এই রোমহর্ষক দৃশ্য দেখার জন্য দিঘীর চারপাড়ে ভিড় জমাবেন উৎসুক জনতা।

আগামীকাল বুধবারও দিঘীর পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ে পৃথক চারটি চড়কগাছ স্থাপন করে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। চড়কপূজাকে কেন্দ্র করে দিঘীর পাড়ে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী জানান, মেলা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসবটি এ অঞ্চলের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: