'আমি তরে পিটমু, তর কোনো বাপে ফিরাইতো পারতোনায়'

সুনামগঞ্জে প্রধান শিক্ষককে হুমকি বিএনপি নেতার

'আমি তরে পিটমু, তর কোনো বাপে ফিরাইতো পারতোনায়'

নিজস্ব প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর

১৮/০৭/২০২৫ ০৭:০৪:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

‘তোরে আমি পিটাইমু (পিটাবো), তোর কোনো বাপে ফিরাইতো (আটকাতে) পারতনায়/জিডি ধরাইতেনি (করতে নি) গিয়া ধরা। তুই আমার লগে বহুত (অনেক) বেয়াদবি করছস (করেছো), পিটা তো খাইছত না বেয়াদবের বাচ্চা, কিছু দিনের মধ্যে পিটা খাইবে। পিটা খাইবার লাগি বার—চা (অপেক্ষা কর)।’ এভাবে অকথ্য ভাষায় এক বিএনপি নেতা একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মুঠোফোনে হুমকি দেন। এরকম হুমকির ভয়েজ রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর উপজেলায়। 


উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা.  রাজা মিয়া চিলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে মুঠোফোনে হুমকি ও গালিগালাজ করেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়েজ রেকর্ড ভাইরাল হলে এলাকার অনেকে ক্ষুব্ধ হন। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। 


প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক জানান, স্কুলের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বরাদ্দ হয়। কাজ করতে গেলে ওই বিএনপি নেতা বাধা দেন। বিষয়টি আমি ইউএনও স্যারকে অবহিত করে প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করি। এ নিয়ে তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ। এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলে তাকে কেন আমি রেজাল্ট জানাইনি, এ নিয়ে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। আমি আমার এক শিক্ষককে নিয়ে তাঁর (রাজা মিয়ার) দোকানে গিয়ে দেখা করে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে চাইলে তিনি আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, তাঁর নাতিকে পাঠিয়ে স্কুলে হুমকি দেন। আমি ভয়ে আছি। আমার শিশু সন্তান এই বিষয় শুনে আতঙ্কে কাটছে। কি করবো ভেবে পাচ্ছি  না। 


চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. রাজা মিয়ার মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। তার হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায় নি।


জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার অরূপ কুমার রায় জানান, ওই শিক্ষক ভয়েজ রেকর্ড পাঠিয়ে বিষয়টি অবগত করেছেন। আমি তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দিয়েছি।


জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্যাহ জানান, প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজের ভয়েস রেকর্ডের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। প্রধান শিক্ষক চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন, আমরা তাকে সহায়তা করবো, এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলবো।


মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: