হবিগঞ্জে ভুয়া সনদে প্রধান শিক্ষক পদে চাকরির অভিযোগ!
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা–এর পুকড়া ইউনিয়নের সাতগ্রাম একতা উচ্চ বিদ্যালয়–এর প্রধান শিক্ষক রানা লাল দাশ–এর বিরুদ্ধে জাল সনদ ও ভুয়া নিয়োগপত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।
অভিযোগকারী নীরেশ চন্দ্র দাশ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রানা লাল দাশ ১৯৯৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তবে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘন করে তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করা হয়। ওই নিয়োগপত্রের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান দেখান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য বাধ্যতামূলক যোগ্যতা হিসেবে বিএড ডিগ্রি প্রয়োজন। কিন্তু রানা লাল দাশের কাছে বৈধ বিএড সনদ ছিল না। পরে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা থেকে জাল বিএড সনদ সংগ্রহ করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি নেন এবং এমপিওভুক্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই উচ্চতর গ্রেডে বেতন–ভাতা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারী অবৈধভাবে উত্তোলিত সরকারি অর্থ ফেরত নেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রানা লাল দাশ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি সাময়িকভাবে সভাপতির দায়িত্বে আছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদা নাজমীন বলেন, বিদ্যালয় খোলার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: