দিনভর খেটে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরলেন মাধবপুরের চা শ্রমিকরা
দেশের অন্যতম পরিপাটি চা বাগান হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাগানে এখন ক্লান্তির ছাপ। অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে বাগানটির কার্যক্রমে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে গত সোমবারও মজুরি ছাড়া খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন শ্রমিকরা। সংকটের পাশাপাশি এবার সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও এদিন ফের মজুরি ছাড়া বাড়ি ফেরায় পরবর্তী দিনগুলোতে মজুরি পাওয়া নিয়ে দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী মুর্শেদ খানের মালিকানাধীন এই চা বাগান বর্তমানে কঠিন আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ভাষ্য। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ শ্রমিকদের জীবনে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত মজুরি দিতে পারছে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সোমবার ছিল শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পাওয়ার দিন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কর্তৃপক্ষ মজুরি পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে শত শত শ্রমিক টাকা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। সপ্তাহ শেষে মজুরি হাতে পেয়ে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন তারা। এবার মজুরি না পাওয়ায় সংসারের খরচ মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শ্রমিকরা।
বাগানের শ্রমিক খেলু নায়েক বলেন, বাগানের অবস্থা ভালো নয়। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। মালিকপক্ষ নিয়মিত শ্রমিকদের টাকা দিতে পারছে না। মজুরি না পেয়ে সবাই ফিরে গেছেন। সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলে তা দিয়ে চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে সংসার চালান তারা। এখন সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।
চা বাগানের শ্রমিক অনেকেই স্বল্প মজুরিতে কোনো রকমে সংসার চালান। তাদের আয় দিয়ে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটানোই কঠিন। এর মধ্যে মজুরি অনিয়মিত হয়ে পড়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বাগানে এ ধরনের সমস্যা চলছে।
বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, কবে মজুরি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে বাগানের ম্যানেজার সোহাগ মাহমুদ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কবে নাগাদ শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: