দিরাই-রানীগঞ্জ সড়কে সেতুর অর্ধেক দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা

দিরাই-রানীগঞ্জ সড়কে সেতুর অর্ধেক দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিনিধি,দিরাই

০৬/০৮/২০২৬ ২২:৩৪:২৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দিরাই-রানীগঞ্জ সড়কের হাতিয়া গ্রামের একটি সেতুর ওপর বালু ও পাথর স্তূপ করে ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে কয়ছর আহমদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এর ফলে সেতুর ওপর দিয়ে যান ও জনবহুল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিরাই উপজেলার কালনী নদীর পূর্ব পাড়ের সরালিটোপ থেকে কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রাম হয়ে সড়কটি জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকায় যুক্ত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার অন্তত অর্ধশত গ্রামের মানুষ সুনামগঞ্জ ও সিলেটে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজন প্রতিদিন আকিল শাহ বাজারসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে এই পথ ব্যবহার করে থাকেন। সড়কটির হাতিয়া গ্রামের মাঝপাড়ার মোল্লা বাড়ির কাছের খালের ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি পুরোনো ও ১০ ফুট প্রশস্ত সেতু রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সেতুর প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন একই গ্রামের কয়ছর আহমদ। স্থানীয় লোকজন ও অটোরিকশাচালকেরা বারবার সেতু থেকে বালু সরানোর অনুরোধ জানালেও কয়ছর আহমদ তাতে কোনো কর্ণপাত করছেন না, উল্টো লোকজনকে গালিগালাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি গ্রামের মানুষ, দুটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচল করে। কিন্তু সেতুর ওপর বালু স্তূপ করে রাখার কারণে সবাইকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আকিল শাহ অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি শিশু মিয়া বলেন, আমাদের চালকেরা জানিয়েছেন, কয়ছর মিয়া সেতুর ওপর ৭০০ থেকে ৮০০ ফুট বালু ফেলে রেখেছেন। এতে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বালু সরাতে বললে তিনি উল্টো চালকদের গালিগালাজ করেন। আমরা বিষয়টি আকিল শাহ বাজার কমিটিকে জানিয়েছি। সেতুটি এমনিতেই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ, তার ওপর বালুর স্তূপের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আকিল শাহ বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কিন্তু সেতুর অর্ধেক জায়গা বালুতে ঢেকে থাকায় সবারই কষ্ট হচ্ছে। কয়ছরকে বালু সরাতে বললে সে উল্টো-পাল্টা কথা বলে। সেতুর ওপর থেকে বালু সরানোর জন্য তার চাচা আব্দুস সালামকে বলা হয়েছে।

বালু-পাথরের ক্রেতা পরিচয়ে কয়ছর আহমদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘সেতুর ওপর প্রায় ৫০০ ফুট বালু আছে, নেওয়া যাবে।’ তবে সেতুর ওপর কীভাবে ব্যবসা করছেন জানতে চাইলে কথা ঘুরিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সেতুর ওপর কোনো বালু-পাথর রাখি না। এই বালু আমার নয়; তহুর নামের এক ব্যক্তি কিনে সেতুর ওপর রেখেছেন।’

এলজিইডির দিরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, হাতিয়া গ্রামের কাছে সেতুর ওপর বালু-পাথর রেখে ব্যবসা করার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি কিছুদিন হলো এখানে যোগদান করেছি। লোক পাঠিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad