সিলেটে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
‘চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সমাপ্ত করা হবে’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সমাপ্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালমাটিয়ায় সিসিকের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকারে প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা লাগবে মোট নির্বাচনগুলো মাঠ থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসার জন্য। নির্বাচন কমিশন বাজেট দিয়েছে এবং চলতি বাজেট, যেটি পার্লামেন্টে অনুমোদন হয়েছে, সেখানেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য বরাদ্দ রাখা আছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোন নির্বাচনটি আগে এবং কোন নির্বাচনটি পরে করা হবে- এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি। তবে এই আগস্টের পর আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেব। তবে সরকারের ঘোষণা যেটি, এই অর্থবছরের মধ্যেই আমরা ৫টি নির্বাচন সমাপ্ত করব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার দেশে আসার কোনো সুযোগ নেই। আর দেশে আসলে তাঁকে গ্রেপ্তার হতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অলরেডি মামলার রায় হয়ে গেছে। তাঁকে জেলের ভেতরে যেতে হবে এবং সেই রায় কার্যকর হবে। আমরা যেটুকু আইন এখন পর্যন্ত বুঝি, তিনি সরাসরি দেশে সাধারণ মানুষের মতো আসার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যেভাবেই আসুন, আসার সঙ্গে সঙ্গেই আইনগতভাবে তিনি গ্রেপ্তারের আওতায় আসবেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সিসিকের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) ঘুরে দেখেন এবং দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সিসিক যেভাবে কাজ করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
এ সময় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, এসটিএস এবং নির্মাণাধীন বায়োড্রায়িং প্ল্যান্টের বিভিন্ন দিক প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরামর্শক মো. শাহীন আহমেদ খান, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: