মৌলভীবাজারে বার্ড পার্কে ডিম দিয়েছে উটপাখি ও এমু, দর্শনার্থীদের কৌতূহল
মৌলভীবাজারের বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে উটপাখির দুটি ও এমু পাখির একটি ডিম সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। বিরল এসব ডিম দেখতে ও হাতে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন দর্শনার্থীরা
উটপাখির ডিমের কথা অনেকেই জানেন, জীবিত পাখির মধ্যে সবচেয়ে বড় এর আকার। কিন্তু কাছ থেকে এটি দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পাখি এমুর সবুজাভ-নীল ডিমও সচরাচর দেখা যায় না। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমু দুই প্রজাতির পাখিই ডিম দিয়েছে। বিষয়টি দর্শনার্থীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে ডিম দুটি দেখা গেছে। উটপাখির দুটি ও এমু পাখির একটি ডিম সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সেগুলো হাতে নিয়ে দেখছেন। উটপাখির ধূসর রঙের একটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। অন্যদিকে এমুর সবুজাভ-নীলচে ডিমটিও আকারে বেশ বড়।
পার্কটিতে দুটি উটপাখি ও দুটি এমুকে পৃথক খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে এদিক-ওদিক সরে যায়। তাদের চলাফেরা ও গড়ন সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা আট থেকে ১০ ফুট এবং ওজন ৬৩ থেকে ১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ডানা থাকলেও ভারী শরীরের কারণে তারা উড়তে পারে না। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। একটি উটপাখির ডিমের ওজন দেড় কেজির বেশি হতে পারে, যা প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান। এরা মূলত আফ্রিকার মূরভূমি, সাভানা ও শুষ্ক অঞ্চলে বাস করে।
এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ উড়তে-অক্ষম পাখির উচ্চতা পাঁচ থেকে ছয় ফুট এবং ওজন ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু সাধারণত গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের বড় আকারের ডিম পাড়ে, যার ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম। উটপাখির মতো নয়, এমুর ডিমে তা দেয় পুরুষ পাখি।
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি দেশের অন্যতম বড় পরিবেশবান্ধব পাখি উদ্যান। এখানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম আছে।
ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে আশা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরীর। দর্শনার্থীদের দেখার জন্য তাঁরা ডিমগুলো সংরক্ষণ করবেন।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: