ক্ষমতার টেবিলে পাশাপাশি বসেন নেতারা, চোখ হারায় কর্মীরা
ক্ষমতার কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীদের ত্যাগের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।
বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সৌজন্য থাকলেও সেই সংস্কৃতি তৃণমূলে পৌঁছায় না। আর এর খেসারত দিতে হয় সাধারণ কর্মীদের।
পোস্টে তিনি লেখেন, প্রথম দৃশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে মঞ্চে নিজের পাশে বসান। দ্বিতীয় দৃশ্যে একটি অনুষ্ঠানে হট্টগোল সৃষ্টি হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাইকে নাম ধরে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে ডাকেন। আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ডা. জারা বলেন, এসব দৃশ্য প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের অভাব নেই। তারা একে অপরকে নাম ধরে ডাকতে পারেন, একই মঞ্চে পাশাপাশি বসতে পারেন।
এর বিপরীতে তিনি হবিগঞ্জের ১৮ বছর বয়সী আলিফের ঘটনার কথা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত হয়ে আলিফ তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন্দ্রের এই বোঝাপড়া যদি তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাত, তাহলে কি আলিফকে এমন মূল্য দিতে হতো?
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে সৌহার্দ্যের বদলে ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণা, হুমকি ও প্রতিশোধের রাজনীতি। মঞ্চ থেকে উচ্চারিত উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিফলন মাঠে গিয়ে লাঠি, রড ও ইটের আঘাতে রূপ নেয়। অথচ দিনের শেষে ক্ষমতার টেবিলে নেতারা পাশাপাশি বসেন, দীর্ঘ সময় কথা বলেন; কিন্তু সেই রাজনীতির বলি হন আলিফের মতো সাধারণ কর্মীরা।
পোস্টের শেষাংশে ডা. তাসনিম জারা আশা প্রকাশ করে বলেন, আর কোনো কর্মী যেন চোখ বা জীবন না হারায়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যে সৌজন্য ও সহমর্মিতা দেখা যায়, সেটি যেন তৃণমূলেও ছড়িয়ে পড়ে—এটাই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: