মাধবপুরে চরম লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন, চা বাগানে উৎপাদনে ধস
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় গত ১৫ দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং শিল্প-কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
এ সমস্যার বেশি প্রভাব পড়ছে উপজেলার পাঁচটি চা বাগানের উৎপাদন কার্যক্রমের ওপর। বাগান থেকে পাতা সংগ্রহ করা হলেও চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে।
স্থানীয় বাগানের একাধিক চা শ্রমিক জানান, চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ। জগদীশপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মনির হোসেন বলেন, চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অন্যতম প্রধান নিয়ামক বিদ্যুৎ। বর্তমানে বিদ্যুতের যে পরিস্থিতি, এতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাগানের বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুন-জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের কোনো করণীয় নেই বলে তারা উল্লেখ করেন।
মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. ইউসুফ আলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দিনে চাহিদা প্রায় ১৫ মেগাওয়াট, কিন্তু দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে ২০ মেগাওয়াটে পৌঁছে। অথচ সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৮ মেগাওয়াট।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: