সুনামগঞ্জে চীনা যুবক, ধর্মান্তরিত হয়ে অবশেষে প্রেমিকাকে বিয়ে

সুনামগঞ্জে চীনা যুবক, ধর্মান্তরিত হয়ে অবশেষে প্রেমিকাকে বিয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

৩০/০৭/২০২৬ ১৪:৫৯:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দূরত্ব প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। দুই দেশের ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, জীবনযাত্রাও ভিন্ন। কিন্তু ভালোবাসার কাছে সেই দূরত্ব যেন এক মুহূর্তেই মুছে গেছে। ফেসবুকে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমের টানেই সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ধর্মপাশার এক তরুণীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. নূর উদ্দিন।

এই ব্যতিক্রমী ভালোবাসার গল্পের নায়িকা নাজমিন আক্তার লিজা (২০)। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। লিজার গ্রামের বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে। তাঁর বাবা মো. নাজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরে বসবাস করছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিজার সঙ্গে পরিচয় হয় চীনের তরুণ উদ্যোক্তা ওয়্যাং সুলিনের। শুরুতে ছিল সাধারণ কথোপকথন। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে যোগাযোগ। একপর্যায়ে সেই পরিচয় গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়। পরে দুজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানান।

পরিবারের সম্মতির পর গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর লিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান। দুই পরিবারের পারস্পরিক পরিচয় ও মতবিনিময়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। নতুন নাম রাখা হয় মো. নূর উদ্দিন। পরে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

আগামীকাল ৩১ জুলাই মোহনগঞ্জ পৌর শহরের হাসপাতাল রোডের রাবেয়া মঞ্জিলে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিবাহউৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাড়িতে চলছে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে নিমন্ত্রণপত্র। এলাকাজুড়েও এই ভিন্নধর্মী বিয়েকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রতারণার নানা ঘটনা সামনে আসায় শুরু থেকেই সতর্ক ছিল কনের পরিবার। লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, ছেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার পাশাপাশি চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad