ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যা পারেনি, জাহাঙ্গীরনগর তা করে দেখিয়েছে নাহিদ ইসলাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরে কোনো ‘ফ্যাসিস্ট’ উপাচার্যের পদত্যাগ নিশ্চিত করা না গেলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বারবার তা পেরেছে। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক ও গণমুখী আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
‘জুলাই’ রক্তঋণের উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখা।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইতিহাসের পাতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো "ফুটনোট" হিসেবে রাখার সুযোগ নেই; বরং এটি একটি বিশাল অধ্যায়। জনবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী যেকোনো ইস্যুতে জাবিয়ানেরা সবার আগে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।’ অতীতের অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ছাত্ররাজনীতি করতাম, তখন ঢাকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জাবির এক সূক্ষ্ম ও সুস্থ প্রতিযোগিতা হতো। এই ক্যাম্পাস সব সময় নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
জুলাই গণ অভ্যুত্থানে জাবি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমান্তরালে লড়াই করেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সাভার আশুলিয়া অঞ্চলের ছাত্র-শ্রমিক জনতাকে এক সুতোয় গাঁথতে জাবির ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। আন্দোলনের কঠিনতম সময়ে জাবির শিক্ষকের সেই অকুতোভয় উচ্চারণ এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থানে রাজপথে থেকে আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা "ভাঙতে" পেরেছি, কিন্তু এখন সময় এসেছে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় "গড়ার"। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ও শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয় বিবেচনা দূর করে একটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক সংস্কার আনতে হবে। নতুন প্রজন্মকেই এই প্রশ্নগুলো তুলতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে তরুণদের ঐক্যের সামনে কোনো ফ্যাসিবাদ টিকতে পারে না। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ প্রতিটি অর্জনেই তরুণদের রক্ত জড়িয়ে আছে। অনুষ্ঠানে কেবল বক্তৃতা দিয়ে এই রক্তঋণ শোধ হবে না। নিজ নিজ জায়গায় নৈতিকতা ও আদর্শ ধরে রাখাই হবে শহীদদের প্রতি আসল শ্রদ্ধা।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন আয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং জিএস মাজহারুল ইসলামসহ আন্দোলনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: