হবিগঞ্জে এক মাসে ৫ খুন, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

হবিগঞ্জে এক মাসে ৫ খুন, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাহুবল

০৭/০৭/২০২৬ ১৪:৫৩:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। গত এক মাসে উপজেলায় পাঁচটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন উপজেলার কাশিরামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুন তিনি মারা যান। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের চাপে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডটিকে মামলা হিসেবে নিতে গড়িমসি করে।

এরপর ১৫ জুন উপজেলার আদিত্যপুর এলাকায় সেলু মিয়া ও হেলাল মিয়া নামের দুই ব্যক্তি জোড়া খুনের শিকার হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই খোজারগাঁও গ্রামে আব্দুল্লাহ নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে মহাশয় বাজার এলাকা থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলেও জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। উল্টো হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে ‘মামলা বাণিজ্য’-এর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শ্রীমঙ্গল-মিরপুর মহাসড়কে রাতে নিয়মিত ডাকাতি এবং বিভিন্ন এলাকায় দিনদুপুরে চুরির ঘটনা ঘটছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ বড় ধরনের কোনো অভিযান চালাচ্ছে না। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একটি অংশের মাসোহারা গ্রহণ ও মোবাইল কোর্টের তথ্য আগাম ফাঁস করে দেওয়ার কারণে বালু খেকোরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ওসি বিভিন্ন মামলার আসামিদের সাথে সখ্যতা রাখছেন এবং কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিকে ব্যবহার করে এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আলম চৌধুরী তুষার বলেন, ‘ওসির নিষ্ক্রিয়তার কারণে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। খুন, চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad