রাজনগরে হঠাৎ আলোচনায় সাবেক এমপি জিল্লুর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে

রাজনগরে হঠাৎ আলোচনায় সাবেক এমপি জিল্লুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজনগর

১৪/০৬/২০২৬ ১৮:২০:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফর ও জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাজসাজ রব বিরাজ করছে। তবে এই সফরকে ঘিরে জেলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক নতুন ও কৌতুহলোদ্দীপক সমীকরণ। বিশেষ করে, রাজনগর সরকারি কলেজ মাঠের পূর্বনির্ধারিত জনসভাটি শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা জনিত কারণে পরিবর্তন করে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানান্তরের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।


রাজনৈতিক শিবিরের মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, রাজনগরের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলে হঠাৎ করেই সাবেক এই এমপির নাম নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার আগমন উপলক্ষে প্রথমে রাজনগর উপজেলাকেই মূল জনসভার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। রাজনগর সরকারি কলেজে এই মহাসমাবেশ হওয়ার কথা থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে 'নিরাপত্তা জনিত কারণে' ভেন্যু পরিবর্তন করে মৌলভীবাজার জেলা সদরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।


এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রাজনগরের চায়ের টেবিলে এক ধরনের হতাশা ও ক্ষোভের হাওয়া বইছে। রাজনগরের স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে রাজনগর তার রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো।


এই প্রেক্ষাপটেই রাজনগরের মানুষ হঠাৎ করে স্মরণ করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে। দলীয় আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও, রাজনগরের অধিকার আদায়ে তাঁর অতীতের ভূমিকা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।


রাজনগরের একাধিক সাধারণ ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাবেক এমপি জিল্লুর রহমান তাঁর মেয়াদের শেষ সময়ে এসে রাজনগরবাসীর জন্য একজন 'সাহসী কণ্ঠস্বর' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি সংসদে ও দলের ভেতরে প্রমাণ করেছিলেন যে, রাজনগরের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি, সামর্থ্য ও ভৌগোলিক গুরুত্ব রয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজনগরের এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান--আজ যখন রাজনগরের স্বার্থ ও অধিকারের প্রশ্ন ওঠে, কিংবা বড় কোনো আয়োজন রাজনগর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন দলমত নির্বিশেষে মানুষ জিল্লুর রহমানের মতো একজন নেতার অভাব অনুভব করছে। রাজনগরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তিনি যেভাবে তুলে ধরতেন, সেজন্যই আজ অনেকে তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন।


রাজনগরে জনসভা না হওয়ার আক্ষেপ থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর ঘিরে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দীপনার কোনো কমতি নেই। জেলা সদরের মাঠ সাজানোর কাজ পুরোদমে চলছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতে পরিণত হবে।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতেই জনসভার স্থান পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সমাবেশ সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।


রাজনগরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সমাবেশস্থল পরিবর্তনের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় নেতৃত্ব ও এলাকার নিজস্ব রাজনৈতিক গুরুত্ব ধরে রাখতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জিল্লুর রহমানের মতো 'সাহসী' নেতৃত্বের খোঁজ এখনো সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত করে চলেছে।

তাহির আহমদ / তানজুবা তাবাসসুম

মন্তব্য করুন: