বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে খুদে বার্তা
এআই ট্রাফিক মামলার নামে সিলেটে অভিনব ডিজিটাল জালিয়াতি
ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর খবরকে পুঁজি করে সিলেটে শুরু হয়েছে ‘ডিজিটাল মামলা’ ও ‘স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম’-এর নামে এক অভিনব ও ভীতিপ্রদ প্রতারণা। সম্প্রতি ঢাকার একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার দেবজ্যোতি দে ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে তাঁর মোবাইলে একটি খুদে বার্তা পান, যেখানে ‘ইন্টেলিজেন্ট ভিডিও নজরদারি ব্যবস্থায়’ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানার দাবি করা হয়; অথচ ওই নির্দিষ্ট দিনে তাঁর গাড়িটি ঢাকার নিজস্ব গ্যারেজেই রাখা ছিল। শুধু দেবজ্যোতি নন, সিলেট নগরের ডাকবাংলো রোড এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম চক্রবর্তীসহ সিলেটের বহু গাড়ির মালিক বিআরটিএর পরিচয় দিয়ে পাঠানো এমন ভুয়া ও প্রতারণামূলক খুদে বার্তা পেয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারকরা সরকারি ওয়েবসাইটের ‘gov.bd’ ডোমেইনের পরিবর্তে বিআরটিএর আদলে সম্পূর্ণ নকল ও অপরিচিত ডোমেইনের ওয়েবসাইট তৈরি করে ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক কলিং কোডসংবলিত (+৬৩) বিভিন্ন বিদেশি নম্বর (যেমন: +৬৩৯২৮৬২৯৬৩০৬ ও +৬৩৯৪৯৬৫৮৯১৮৫) থেকে এসব বার্তা পাঠাচ্ছে, যার ভাষা ও উপস্থাপনা এমন নিখুঁত যে সাধারণ মানুষ সহজেই এটিকে সরকারি বার্তা বলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক খায়রুল আলম জানিয়েছেন, প্রতারকরা মানুষের এআই সংক্রান্ত আগ্রহ ও আতঙ্ককে পুঁজি করে ভয় দেখিয়ে দ্রুত লিংকে প্রবেশ করতে বাধ্য করছে, যা শুধু অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই নয়, বরং ব্যবহারকারীর মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রেডিট কার্ডের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য চুরির (ফিশিং) এক বড় ফাঁদ।
এ বিষয়ে বিআরটিএর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বিষয়টিকে স্পষ্ট জালিয়াতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “ঢাকার বাইরে এখনো এআইভিত্তিক ট্রাফিক মামলা কার্যক্রম চালুই হয়নি, ফলে সিলেটে এ ধরনের মামলার কোনো প্রশ্নই আসে না; লটারি বা চাকরির প্রলোভনের পর প্রতারকরা এখন ‘এআই নজরদারি’ বা ‘ডিজিটাল মামলা’-র মতো আধুনিক শব্দ ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
পুলিশ প্রশাসন ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এ ধরনের সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ না করার এবং কোনো অর্থ পরিশোধের আগে অবশ্যই সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: