দিরাইয়ে পাঁচ মাসে ১ নারীসহ ৬ খুন

আধিপত্যের লড়াই ও জলমহাল নিয়ে দ্বন্দ্ব

দিরাইয়ে পাঁচ মাসে ১ নারীসহ ৬ খুন

নিজস্ব প্রতিনিধি,দিরাই

০১/০৬/২০২৬ ০৯:০৮:৩৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার, জলমহাল দখল এবং আর্থিক লেনদেনসহ নানা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত দিরাই উপজেলায় গত পাঁচ মাসে এক নারীসহ ৬ জন খুন হয়েছেন। এসব রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি শতাধিক ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা দুর্গম এই ভাটি অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল আধিপত্যের লড়াইয়ে খুন হন উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল আশ্রম গ্রামের আঞ্জু মিয়া, ৮ এপ্রিল রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর কান্দা হাটির গিয়াস উদ্দিন, একই দিনে ওই ইউনিয়নের সাদিরপুর গ্রামের আহাদ নুর, ১২ মে ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের রতন মিয়া, করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামের ইসলাম উদ্দিন এবং সর্বশেষ ২৯ মে দিরাই পৌরশহরের নতুন বাগবাড়ী গ্রামে নির্মমভাবে খুন হন মিতা বেগম নামে এক নারী। এর বছরখানেক আগেও উপজেলার জগদল ইউনিয়নের পুকিডর ও মাতারগাঁও গ্রামে আধিপত্যের জেরে আরও দুটি খুনের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী গ্রাম্য মোড়ল নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিল ও প্রভাব ধরে রাখতে গ্রামগুলোতে বছরের পর বছর কোন্দল জিইয়ে রাখছেন এবং তাঁদের উসকানিতেই জলমহাল ইজারা ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পথ বেছে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। দিরাই উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মামলা, পাল্টা-মামলা, হামলা ও ঘরবাড়ি লুটপাটের কারণে এখন হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষ ঘরছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং দিন দিন এই গ্রাম্য কোন্দল বাড়লেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেলেও যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, তবে যেকোনো মূল্যে সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ করে হাওরপাড়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: