সিলেটে গুজব ছড়িয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর ও লুটপাট, গ্রেপ্তার ৫

সিলেটে গুজব ছড়িয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর ও লুটপাট, গ্রেপ্তার ৫

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

৩১/০৫/২০২৬ ১৯:১৯:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট নগরীতে এক শিশুকে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) তৈরি করে খগেন্দ্র চন্দ্র দাস নামের এক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাঁর দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। গত শুক্রবার (২৯ মে) রাতে নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ীর ছেলে রুবেল দাস বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার ‘রানী স্টোর’ নামের একটি মুদিদোকানের মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাস। শুক্রবার রাতে দোকানে আসা একটি শিশুকে ফ্রিজের সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে বলাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। শিশুটির মা এসে প্রথমে হট্টগোল শুরু করেন। পরে মুহূর্তের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে লোকজন জড়ো করে দোকানে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্রকে বেদম মারধর করে দোকান ভাঙচুর করে। এ সময় দোকান থেকে নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মুঠোফোন লুট করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।


গুরুতর আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, ‘দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে। ফুটেজ দেখলেই পুরো ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে এই হামলা চালানো হয়েছে।’ স্থানীয় খুর্শেদের ছেলে আরিফ ও তাঁর সহযোগীরা এই হামলায় জড়িত বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে।


খবর পেয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যবসায়ীর খোঁজ নেন। এছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীও হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান। নেতৃবৃন্দ একে ‘পরিকল্পিত মব সহিংসতা’ আখ্যা দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব বলেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সিসিটিভি ফুটেজে শ্লীলতাহানির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পূর্বে বাকি পণ্য বা টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এই গুজব ছড়ানো হতে পারে।’


সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম সিলেটকে বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যৌন হয়রানির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বাকি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের তথ্যও উঠে এসেছে।’


পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতেও অভিযান চলছে। মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad