লাফার্জ হোলসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছাতকে ফসলি জমির মাটি কেটে বিরানভূমি,ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ
ছাতকে পরিবেশ ধ্বংসের একাধিক অভিযোগ লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই-এমনটি দাবি ভুক্তভোগীদের। কোম্পানীর পরিবেশ ধ্বংসের ধারবাহিকতায় শত শত ফসলের জমির মাটি কেচে হচ্ছে বিরানভুমি। পরিবেশ বিপর্যয়ের মারাত্বক হুমকীর পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহনে নীরব ভূমিকা সঙ্গত কারণে প্রশ্নবিদ্ব।
ভুক্তভোগীরা জানান, একদিকে সিমেন্ট কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করছে। বায়ু দূষণে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, চর্মরোগ, এমনকি ক্যান্সারে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। বর্জ্য পরিবহনের সময় রাস্তায় দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা পথচারী ও স্থানীয়দের কষ্টের কারণ। অপরদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, তাদের ফসলি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে শত শত একর কৃষিভূমি এখন বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা বর্ষায় জলাশয়ে রূপ নেয়। এতে হাজারো কৃষক বেকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শীতকালে সিমেন্টের ধূলায় ঘরবাড়ি ও গাছপালা ঢেকে যায়, যা সবুজ পরিবেশ নষ্ট করছে।
এর প্রতিবাদে নাগরিক পরিবেশ ও যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থা পরিবেশ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে প্রতিবাদ করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আইনুল আহমদ বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মেশিন চালু হলে দুর্গন্ধে বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “লাফার্জ হোলসিমের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। আমরা কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলাম। তারা জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সমাধান করবে। আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি—পরিবেশের ক্ষতি হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের মিডিয়া সমন্বয়ক তৌহিদুল ইসলাম জানান, “লিখিত অভিযোগের বিষয়টি এখনো তিনি জানেন না,তবে প্লান্টে খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানাবেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: