উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি
সিলেট ও হাওর এলাকায় আগাম বন্যার শঙ্কা
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি বেড়ে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) পাউবো’র দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও ভুগাই-কংস নদীর পানি বেড়েছে। বর্তমানে নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সাম্প্রতিক মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানি বাড়লে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামীকাল তা অতিক্রম করার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৮ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় সিলেটসহ দেশের আটটি বিভাগেই কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরের কৃষকদের মাঝে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে বোরো ধান কাটা ও সংগ্রহের এই শেষ মুহূর্তে পানি বৃদ্ধি পেলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: