বদলে যাচ্ছে গোয়াইনঘাটের সীমান্তবর্তী জনপদ ও পর্যটন এলাকা
Led Bottom Ad

উন্নয়নের ছোঁয়া

বদলে যাচ্ছে গোয়াইনঘাটের সীমান্তবর্তী জনপদ ও পর্যটন এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোয়াইনঘাট

২৭/০৪/২০২৬ ১৬:৪৩:২২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শতকোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদ ও পর্যটন এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আরসিসি ঢালাই, কার্পেটিং, কালভার্ট ও ব্রীজ নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তির পথে স্থানীয় জনগণ।


সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দি ইউনিয়ন ও সীমান্তবর্তী জনপদ একসময় ছিল কাদা, খাল-নদী ও নালায় ঘেরা দুর্ভোগের এলাকা। খেয়া নৌকা ও কাঁচা সড়কের ওপর নির্ভর করেই প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চলাচল করতে হতো। এখন সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে।


এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ১০২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লুনী নদীর ওপর ২৮৮.৩০ মিটার দীর্ঘ পিএসসি ও আরসিসি আর্চ গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৭২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে এ ব্রীজের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।


এছাড়া সালুটিকর–গোয়াইনঘাট জিসি সড়কে ১০ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই কাজের মধ্যে একাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ চলমান রয়েছে। এই সড়কটি সিলেট শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।


খাইরাই–উপরগ্রাম হাদারপার বাজার সড়কে ৬ কিলোমিটার কার্পেটিং কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যার ব্যয় ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন অবহেলিত এই সড়কের উন্নয়নে স্থানীয়দের স্বস্তি ফিরেছে।


বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকা ও আশপাশে “আমার গ্রাম আমার শহর” প্রকল্পের আওতায় একাধিক ইউনি-ব্লক সড়ক উন্নয়ন কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বিছনাকান্দি বিওপি থেকে পর্যটন স্পট পর্যন্ত ৭৭০ মিটার সড়ক, বগাইয়া এলাকার বিভিন্ন সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব প্রকল্পের ফলে পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াত আরও সহজ হয়েছে।


অন্যদিকে ভোলাগঞ্জ–দয়ারবাজার–হাদারপার–দমদমীয়া সড়কে ৬,৬৫০ মিটার আরসিসি ঢালাই ও ৭টি কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, যার ব্যয় ২৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে।


স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, আগে এসব এলাকায় চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। ভাঙা সড়ক ও কাদার কারণে মালামাল পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন সড়ক উন্নয়নের ফলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমে এসেছে।


দমদমীয়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা সফিক মিয়া বলেন, “আগে কাদা-পানিতে চলা যেত না। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোও কষ্টকর ছিল। এখন পাকা সড়ক হওয়ায় আমাদের জীবন অনেক সহজ হয়েছে।”


উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহামেদ বলেন, “গোয়াইনঘাট একটি বৃহৎ পর্যটন ও সীমান্তবর্তী উপজেলা। মানসম্মত অবকাঠামো উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন হলে জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে এবং পর্যটনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।”


সব মিলিয়ে, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে গোয়াইনঘাটের সীমান্তবর্তী জনপদ ও পর্যটন এলাকা এখন নতুন রূপে দৃশ্যমান উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad