নির্বাচনী হাওয়া : বিশ্বনাথে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হতে চার প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ
নির্বাচনী তপসীল ঘোষণা না হলেও উপজেলা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে বিশ্বনাথের মাঠে চার নারী প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ার মতো। ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, গ্রামগঞ্জের উঠান বৈঠক—সবখানেই এখন ভোটের আলোচনা। বিশেষ করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার পরিচিত নারী নেত্রীর প্রার্থিতা ঘোষণায় নতুন মাত্রা পেয়েছে নির্বাচন। উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে মাঠে নেমেছেন তাঁরা।
প্রার্থীদের আগাম প্রচারণা, গণসংযোগ ও সমর্থন আদায়ের ব্যস্ততায় ইতিমধ্যে জমে উঠেছে উপজেলার নির্বাচনী পরিবেশ। ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
অভিজ্ঞতার ভরসায় নুরুন নাহার ইয়াছমিন
বিশ্বনাথ উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি ও বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য নুরুন নাহার ইয়াছমিন তৃণমূল রাজনীতির অভিজ্ঞ মুখ। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি আত্মবিশ্বাসী।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকতে চাই। বিশ্বনাথের নারীদের অধিকার, শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতার জন্য কাজ করতে চাই। জনগণ সুযোগ দিলে সেবার মাধ্যমে তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেব।”
নতুন আশার বার্তা নিয়ে রুমি বেগম
নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় এসেছেন রুমি বেগম। তিনি উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তাঁকে নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
রুমি বেগম বলেন, “বিশ্বনাথকে আরও এগিয়ে নিতে নারী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আমি জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে গুরুত্ব দেব।”
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় নাজমা বেগম
সিলেট জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য নাজমা বেগমও মাঠে সরব রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি মানুষের কল্যাণের জন্য। নির্বাচিত হলে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াব, নারীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করব।”
অভিজ্ঞতার আলোয় স্বপ্না শাহিন
সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেগম স্বপ্না শাহিন আবারও প্রার্থী হয়ে মাঠে ফিরেছেন। পূর্বের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবার তাঁর বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি আগে দায়িত্ব পালন করেছি, তাই মানুষের চাহিদা ও সমস্যাগুলো জানি। অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে আবারও সবার দোয়া ও সমর্থন চাই।”
উৎসবমুখর ভোটের মাঠ
চার নারী প্রার্থীর সরব উপস্থিতিতে বিশ্বনাথের নির্বাচনী মাঠ এখন প্রাণচঞ্চল। ভোটাররা বলছেন, নারী নেতৃত্বের এই প্রতিযোগিতা স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কারা চূড়ান্তভাবে মাঠে থাকবেন তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এবারের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আর বিশ্বনাথবাসী দেখতে যাচ্ছে এক প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: