শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

০৬/০৪/২০২৬ ১০:৪৯:৫৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলের তীব্র সংকটের কারণে উপজেলার বিপুল সংখ্যক চা-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০১২ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও দীর্ঘ এক যুগেও জনবল বৃদ্ধি না হওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, অনুমোদিত ১৪৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১০৮ জন কর্মরত আছেন এবং ৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৯০০ এবং জরুরি বিভাগে শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরতরা। ভুক্তভোগী চা-শ্রমিক সাধন দাশ আক্ষেপ করে জানান, চার দিন ধরে হাসপাতালে এসেও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। চিকিৎসকের অভাবে ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তারদের এনে উপজেলা সদরে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে, যার ফলে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাও ভেঙে পড়েছে। এছাড়া টেকনিশিয়ানের অভাবে হাসপাতালের আধুনিক এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে এবং স্থায়ী গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতিসেবা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালিকায় মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ওয়ার্ড বয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের শূন্যতা ফুটে উঠেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন জানান, স্বল্প জনবল ও বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তীব্র সংকট নিয়ে সেবা সচল রাখতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান এই সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের চাহিদা পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই পদগুলো পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

চা বাগান অধ্যুষিত এই জনপদের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ শ্রমিকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনবল প্রাপ্তি সাপেক্ষে হাসপাতালের সেবার মান দ্রুতই উন্নত করা হবে। বর্তমানে অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের সীমিত সংখ্যক কর্মী ও চিকিৎসকরা চরম পেশাগত চাপের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন: