প্রতিক্রিয়ার ঝড়
টাংগুয়ার হাওরের পর্যটন স্পটে ভাসমান বাজার
পর্যটকদের সুবিধা বিবেচনায় টাংগুয়ার হাওরে উদ্বোধন হয়েছে ভাসমান বাজার। বাজার উদ্বোধনের বিষয়টি পর্যটকদের জন্য ইতিবাচক এবং নতুন কনসেপ্ট বলে বিবেচিত হলেও এর বিপরীতে রয়ে্ছে সমালোচনাও। কেউ কেউ বলছেন-পর্যটকদের সুবিধা হলেও হাওর এলাকায় এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্য দিয়ে পর্যটক শোষন,হাওরের পরিবেশ বিনষ্ট এমনকি সৃষ্টি হতে পারে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। উদ্বোধন পরবর্তী এইসব আলোচনায় এখন মুখরিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
স্থানীয়রা বলছেন,এই বাজার কি বাস্তবিকই হাওর পাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, নাকি এটি শুধু "আজকের রঙিন আয়োজনেই" সীমাবদ্ধ থাকবে? তাদের মতে, যদি দীর্ঘমেয়াদে বাজারটি সচল রাখা হয়, নিয়মনীতি নির্ধারণ করা হয় এবং পর্যটক ও হাউজবোট মালিকদের জন্য স্থানীয় পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা যায়, তবে এই উদ্যোগ সফল হবে। অন্যথায় এটি লোক দেখানো কর্মসূচি হিসেবে হারিয়ে যেতে পারে। একই অভিমত স্থানীয় যুবক তোফায়েলের। তিনি বলেন,‘এই বাজার টিকিয়ে রাখতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও মনিটরিং টিম জরুরি’।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আবুল হাসেম তার অফিসিয়াল ফেইবুক আইডিতে লিখেন, ভাসমান বাজার নিয়ে অনেকেই ভুল চিন্তা করছেন। এ বাজারের মূল উদ্দেশ্য স্থানীয়দের বিকল্প আয়ের উৎসের সন্ধান। নিউ কনসেপ্ট। এখানে চিপস,প্লাস্টিক জাত পন্যের মোড়ক ব্যতিরেকে অন্যান্য পন্য যেমন ফলমূল, পিঠা, সবজি ইত্যাদি বিক্রি করতে পারবে।
এখন যেমন: গোলাবাড়ি,জয়পুরের লোকজন চিপস, চানাচুর ইত্যাদি প্লাস্টিক প্যাকেটে বিক্রি করে,তাই অতিদ্রুত এগুলো না বিক্রি করে ভাসমান বাজারে প্লাস্টিক মোড়ক বিহীন খাবার বিক্রি করতে উৎসাহিত করতে আমাদের উদ্যোগ। তারা নিজেরা পন্য সংগ্রহ করবে, বিক্রি করবে। প্রশাসন উপায় দেখিয়েছে মাত্র। এছাড়া তিনি আরও বলেন, এতে প্লাস্টিক বিহীন বিকল্প পন্য বিক্রি বাড়বে, প্লাস্টিক বিতারিত হবে। বিকল্প কর্মসংস্থান হবে। নতুন আয়ের উৎস হবে।
উল্লেখ্য, টাংগুয়ার হাওর পর্যটন স্পষ্ট র নামক এলাকায়,তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে, ভাসমান সবজি ফলমূল বাজারের শুভ উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার দেব জিৎ সিংহ।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: