মাধবপুর ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার স্থায়ী ঠিকানা মেলেনি ২৯ বছরেও
প্রতিষ্ঠার পর পেরিয়ে গেছে প্রায় তিন দশক। এখন পর্যন্ত মেলেনি নিজস্ব স্থায়ী ঠিকানা। এমন পরিস্থতিতে স্থান সংকটে পড়েছে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হবিগঞ্জ জেলাধীন মাধবপুর পৌরসভা। জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা পরিষদের ভবন ও পুরোনো উপজেলা আদালত ভবনের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে কোনো রকমে চলছে পৌরসভাটির দাপ্তরিক কার্যক্রম।
এর কারণে সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে নিজেদের সর্বোচ্চ দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় একদিকে যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজের পরিবেশ হারাচ্ছেন, অন্যদিকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য জমি কেনা, নকশা অনুমোদন এবং দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এতে করে পৌরসভার মানসম্মত ভবন নির্মাণ ও নির্বিঘ্ন সেবাপ্রদান প্রক্রিয়ায় ছেদ পড়ে। একেবারে পুরো প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে অতি সম্প্রতি সেই জটিলতার অবসান ঘটেছে।
বর্তমানে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত পৌরসভাটির পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। তিনি জানান, ভবন নির্মাণ নিয়ে রিট-সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। সেই জটিলতার নিষ্পত্তি ঘটেছে। এখন ভবন নির্মাণে কোনো আইনি বাধা নেই। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা। সেটি পাওয়া মাত্র ভবন নির্মাণের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৯৯৭ সালের ২ আগস্ট প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার উদ্যোগে মাধবপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালে এটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। এরপর থেকে জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদানের কেন্দ্রে পরিণত হয় এটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ভিড় করেন।
পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কর্মকর্তাদের বসার জায়গার সংকট এবং ফাইলপত্র সংরক্ষণের জায়গা না থাকার মতো সমস্যার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়।
এ ছাড়া গত দুই বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় (প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায়) নাগরিকদের সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর কবীর ও সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক আক্ষেপ করে বলেন, একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার নিজস্ব ভবন না থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত পৌরসভার উপযুক্ত ভবন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রে সংকট দূর করে এটিকে সেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত করা উচিত।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: