বড়লেখায় ৭ বছরেও বিতরণ হয়নি স্বাস্থ্য কার্ড, সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

বড়লেখায় ৭ বছরেও বিতরণ হয়নি স্বাস্থ্য কার্ড, সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

০৮/০৭/২০২৬ ২১:৫২:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপকারভোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হাজার হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড দীর্ঘ ৭ বছরেও বিতরণ করা হয়নি। সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের স্টোররুম থেকে বারান্দায় বস্তাবন্দি অবস্থায় এসব কার্ড ফেলে রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেলে রাখা কার্ডগুলোর কোনোটিতে প্রদানের তারিখ ২০১৩ সাল, আবার কোনোটিতে ২০১৯ সাল উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্ড সুবিধাভোগীদের না দেওয়ায় সরকারের মাঠপর্যায়ের সেবামূলক এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যই এখন ভেস্তে যেতে বসেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণকারী নারী-পুরুষদের সরকারি ভাতা ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এসব কার্ড তৈরি করে। কার্ডগুলোতে সুবিধাভোগীদের নাম-ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংযুক্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে এই কার্ডগুলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তা বিতরণ না করায় সাধারণ মানুষ সরকারের নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের স্বজনরা তালাবদ্ধ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বারান্দায় একটি বড় বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। কৌতূহলবশত বস্তাটি খুললে দেখা যায়, সেটি লেমিনেটেড করা হাজার হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ডে ঠাসা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানে প্রায় ২০ হাজার উপকারভোগীর কার্ড রয়েছে, যা অনেক আগেই সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল।


স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি এসব কার্ড কেন উপকারভোগীদের দেওয়া হলো না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এই গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা বলেন, আমি ২০২৪ সালে এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের পরই স্টোররুমে আগের সংরক্ষিত এই কার্ডগুলো দেখতে পাই। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সেবাগ্রহীতাদের তথ্য রেজিস্টারের পরিবর্তে ট্যাবে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এসব কার্ড তৈরি করা হয়েছিল। তবে কার্ডগুলোতে কিছু ত্রুটি থাকায় তৎকালীন সময়ে সেগুলো বিতরণ করা হয়নি।


বারান্দায় ফেলে রাখার বিষয়ে তিনি জানান, বুধবার অফিস ও স্টোররুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলায় সাময়িকভাবে কার্ডের বস্তাটি বারান্দায় রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো আবার স্টোররুমে এনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

হিফজুর রহমান/ ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad