জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহজালাল মাজারে দানবাক্স স্থাপন

নিরাপত্তায় আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহজালাল মাজারে দানবাক্স স্থাপন

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৮/০৬/২০২৬ ১৭:৪৩:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) বিকেল ৩টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে একটি প্রধান দানবাক্সসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আরও কয়েকটি ছোট বাক্স বসানো হয়। এসব দানবাক্সের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি মাজারের বিদ্যমান দানবাক্সগুলোতে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রশাসনের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নতুন এসব দানবাক্স স্থাপন করা হলো।


দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটের এই দুই ঐতিহাসিক মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ছিল। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা প্রতিদিন মাজারগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়, তার সুনির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক কোনো হিসাব এতদিন ছিল না।


সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের এক সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্বচ্ছতার চিত্রটি সামনে আনা হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে আয়ের হিসাব চাওয়া হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সঠিক হিসাব উপস্থাপন করতে পারেনি।


সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম জানান, আপাতত আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে মাজারের সমস্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই সময়ের মধ্যে দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হবে।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পর্যবেক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার পর ভবিষ্যতে মাজারের সব ধরনের আর্থিক হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং নিয়মিত অডিটের (নিরীক্ষা) আওতায় আনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


তাহির আহমদ/ সজল আহমদ

মন্তব্য করুন: