হবিগঞ্জে কোটি টাকার সিলিকা বালু লুট: পরিবেশ ও বসতভিটা ধ্বংসের মুখে

থামছেনা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

হবিগঞ্জে কোটি টাকার সিলিকা বালু লুট: পরিবেশ ও বসতভিটা ধ্বংসের মুখে

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৯/০৬/২০২৬ ১৯:৪৭:২৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হরিতলা এলাকার ধুলিয়াছড়ায় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও মোটা অঙ্কের জরিমানা সত্ত্বেও কোনোভাবেই থামছে না সিলিকা বালু লুটের মহোৎসব; স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী নেতার সমন্বয়ে গঠিত এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় দিনে-রাতে অবাধে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে চলছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান এই খনিজ সম্পদ পাচার।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, দিনের বেলায় বড় বড় শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, আর রাতের অন্ধকারে সেই বালু ট্রাক্টরযোগে মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন পয়েন্টে স্তূপ করে রাখা হয়। পরে ভোর হওয়ার আগেই ভেকু দিয়ে ড্রাম ট্রাকে বালু তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হরিতলা এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য; ভাঙনের মুখে পড়েছে শতশত বসতবাড়ি।

ভুক্তভোগী সিরাজ আলী অভিযোগ করে বলেন, “হরিতলা গ্রামের কমর উদ্দিন, নাবিল মিয়া ও সোহেল মিয়া স্থানীয় তাউছ মিয়ার নেতৃত্বে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন করছেন; আমি আমার বসতবাড়ি রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম, যার ফলে আমাকে উল্টো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়।”

অপর এক ভুক্তভোগী জানান, কপিল উদ্দিনসহ আরও ৪-৫ জনের নেতৃত্বে বালু উত্তোলনের কারণে ইতোমধ্যে তার বাড়ির অন্তত ১৫টি গাছ ছড়ার গর্ভে ধসে পড়েছে। বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের বিকট শব্দে এবং বেপরোয়া চলাচলে স্থানীয় সড়কগুলো চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের জীবনে চরম ভোগান্তি ডেকে এনেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে বালু পাচার নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশের টহল দলের কিছু অসাধু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়। তবে এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কোনো সদস্য এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় উপজেলা প্রশাসনকে আমরা সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা করছি।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় যোগদানের পর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ১৫টি নিয়মিত মামলা দায়ের ও ২২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবুও থামছে না এই হরিলুট। এ বিষয়ে ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, “আমি যোগদানের পর ১৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি এবং দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনবল সংকট থাকলেও আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি, এরপরও কেন এটি বন্ধ হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় না আনলে খুব দ্রুতই পরিবেশ ও জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad