সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদী এখন কচুরিপানার দখলে মৃতপ্রায়

সাপ ও মশার আতঙ্কে এলাকাবাসী

সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদী এখন কচুরিপানার দখলে মৃতপ্রায়

প্রথম ডেস্ক

২৩/০৫/২০২৬ ১১:৪৮:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

একসময় যে নদীর বুকে নিয়মিত নৌকা চলত এবং জেলেদের জালে ধরা পড়ত নানা প্রজাতির দেশি মাছ, সেই নদী এখন কচুরিপানার দখলে চলে গিয়ে পুরোপুরি মৃতপ্রায় জলাশয়ে পরিণত হয়েছে; বুকজুড়ে আর নেই পানির প্রবাহ, চারদিকে শুধু সবুজ কচুরিপানার স্তর দেখে দূর থেকে মনে হয় এটি কোনো নদী নয়, যেন এক পরিত্যক্ত সবুজ মাঠ। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নতুন হাছননগর এলাকার ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদীর বর্তমান চিত্র এখন এমনই দাঁড়িয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সরকারি তদারকির অভাবে নদীটি পুরোপুরি কচুরিপানায় ঢেকে গিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে এলাকায় বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব ও বিষধর সাপের আতঙ্ক।

শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে নতুন হাছননগর এলাকার সোনাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের নিচ থেকে শুরু করে নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে জমে আছে ঘন কচুরিপানা, কোথাও পানির স্রোতের চিহ্ন নেই এবং স্থির পানিতে পচন ধরে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে যা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় এই নদী ছিল এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন এবং মাছ ধরা, গোসল, কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে হাওরাঞ্চলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন— সবকিছুতেই এই নদী ব্যবহৃত হতো; কিন্তু বছরের পর বছর কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় নদীটি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় যুবক সারোয়ার মিয়া।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নদীটি এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি কচুরিপানার ভেতর বিষধর সাপ ও বিচ্ছু আশ্রয় নিচ্ছে এবং এগুলো প্রায়ই লোকালয়ে ও বাড়ির আঙিনায় চলে আসায় শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সালিশ ব্যক্তিত্ব মফিজুর রহমান। নদীটির অচলাবস্থার কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে উল্লেখ করে ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী ছিল এবং আগে একে কেন্দ্র করে বহু মানুষ মাছ ধরাসহ বিভিন্ন শ্রমভিত্তিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে; তিনি আরও জানান, সাবেক মেয়রের আমলে প্রতি বছর বরাদ্দ দিয়ে নদীটি পরিষ্কার করা হলেও বর্তমান পৌর প্রশাসক দ্রুত উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে। এদিকে এই উদ্ভূত জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে পৌর প্রশাসকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি; তবে ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে নদীটির স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: