হরমুজ প্রণালি অবরোধের নির্দেশ ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার পর এবং ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা সব জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে অবরোধ করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "কেউ হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।" একই সাথে তিনি সতর্ক করেন, যেসব দেশ বা জাহাজ ইরানকে ‘টোল’ দিয়ে এই পথ ব্যবহার করবে, তাদের আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করা হবে। এমনকি ইরানকে সহায়তা করলে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্পের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, কেউ যদি এই নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করে, তবে তাকে ‘মারণ ফাঁদে’ ফেলা হবে। তেহরানে ফিরে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ওয়াশিংটনের কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। উল্লেখ্য, গালিবাফ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সেই ব্যর্থ আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে সীমিত করেছে। রবিবারের এক প্রতিবেদনে ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে ফিরে গেছে। মার্কিন নৌবাহিনী মাইন অপসারণ শুরু করেছে বলে দাবি করলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: