পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

প্রথম ডেস্ক

০৯/০৭/২০২৬ ১৯:২৮:৪৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

গত চার দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

এতে দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। 

সরেজমিন দেখা গেছে, লামা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লামা-আলীকদম সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে; ফলে দুই উপজেলার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লামা বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে।

লামা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের আড়াই মাইল থেকে বড়ছনখোলা ও কমিউনিটি সেন্টার বাজারে যাওয়ার একমাত্র কাঠের সেতুটি পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেঙে গেছে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ফাইতং ইউনিয়নের কুইজ্জাখোলা পাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ভারী বর্ষণের পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় মানুষের চলাচল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে।

লামা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় মানুষ সীমিতভাবে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণে পানি বেড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের খবরও পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। কিছু গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈন উদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad