ছাতকে প্রবাসীর গোয়াল ফাঁকা করে ৪ লাখ টাকার গরু লুট

ছাতকে প্রবাসীর গোয়াল ফাঁকা করে ৪ লাখ টাকার গরু লুট

উজ্জীবক সুজন তালুকদার, ছাতক প্রতিনিধি

২৬/০৫/২০২৬ ১৩:২৪:০৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) যত ঘনিয়ে আসছে, সুনামগঞ্জের ছাতকসহ আশপাশের এলাকায় ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্র। প্রতিবছর এই মৌসুমকে কেন্দ্র করে চোরদের তৎপরতা বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় খোদ বসতভিটায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন গৃহস্থরা।


সর্বশেষ গত ২৪ মে রবিবার গভীর রাতে উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়নের নয়া-রাজারগাঁও গ্রামে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামের প্রবাসী জামাল উদ্দিন সুজনের বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়ালঘর থেকে একযোগে ৪টি মূল্যবান গরু নিয়ে গেছে চোর চক্র। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চুরি হওয়া গরুগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা।


পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই রাতে গরুগুলোকে গোয়ালঘরে বেঁধে রেখে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সোমবার (২৫ মে) সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘর সম্পূর্ণ ফাঁকা দেখে তাঁরা হতবাক হয়ে যান। চোরেরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে গোয়ালঘরের তালা কেটে বা দরজা ভেঙে গরুগুলো নিয়ে চম্পট দেয়। পরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং সম্ভাব্য পশুর হাটগুলোতে খোঁজাখুঁজি করেও গরুগুলোর কোনো সন্ধান মেলেনি।


কোরবানির ঈদের আগে এমন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে প্রবাসীর পরিবারটি এখন দিশেহারা। এই ঘটনার পর থেকে গোটা নয়া-রাজারগাঁও ও আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ছাতকের বিভিন্ন গ্রামে চোর সিন্ডিকেটের উপদ্রব বাড়ে। চোরেরা আগে থেকেই বিভিন্ন বাড়ি রেকি করে এবং সুযোগ বুঝে পিকআপ ভ্যান বা ট্রলার নিয়ে এসে গোয়াল ফাঁকা করে দিয়ে যায়। অতীতে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর নৈশ টহল বা কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চোরেরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন এই অপরাধ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।


এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে গ্রামীণ সড়কগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার এবং সন্দেহভাজন চোর ও চোরাই গরু সিন্ডিকেটের সদস্যদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ঈদের আগে আরও বহু পরিবারকে এমন নিঃস্ব হতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।


এদিকে গরুগুলোর সন্ধান কামনা করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। নিচে দেওয়া মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যোগাযোগ: ০১৭১২-৩২৫১৯৮, ০১৭১৭-৮০২৪২২, ০১৭১২-৩০২৯১৯।

সুজন তালুকদার/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: