সুনামগঞ্জে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিশাল মানববন্ধন

ধর্ষকদের দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি

সুনামগঞ্জে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিশাল মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৫/০৫/২০২৬ ১৫:০১:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু নির্যাতনের চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে এবং শিশু রামিসার নির্মম হত্যাকারী ও ধর্ষকসহ সকল ধর্ষকের দ্রুততম সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একদফা দাবিতে তীব্র দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জে এক বিশাল প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘আমরা সুনামগঞ্জবাসী’র ব্যানারে জেলা শহরের আলফাত স্কয়ার সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের প্রধান সড়কে এই স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজিত এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ দলে দলে অংশ নেন এবং দুপুরের দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে শহীদ মিনারের সামনের সড়কে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল স্লোগান দিতে থাকেন। সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ সুখেন্দু সেনের বিশেষ সভাপতিত্বে এবং জেলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদের সুচারু সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন— প্রবীণ দূরদর্শী রাজনীতিবিদ চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্মানিত সভাপতি পঙ্কজ দে, জেলা সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জেলা হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সেক্রেটারি ওবায়দুল হক মিলন এবং বিশিষ্ট কবি ওবায়দুল হক মুন্সি প্রমুখ। প্রতিবাদী মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা গভীর ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে দেশে একের পর এক লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে প্রকৃত অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে এবং আইনি জটিলতা ও বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে খুনি-ধর্ষকদের পার পেয়ে যাওয়ার এই অপসংস্কৃতি সমাজ থেকে চিরতরে দূর করতে হবে। তাঁরা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে আরও বলেন, সরকারকে অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ের মধ্যে নারী ও শিশু হত্যাকারী এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ সরাসরি নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণের জানমালের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া যেকোনো নির্বাচিত সরকারের প্রধান ও পবিত্রতম দায়িত্ব এবং এখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কারও ওপর দায় চাপিয়ে বা দোষারোপ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে যদি এই যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন করা না হয় এবং বিশেষ আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে দেশের অবুঝ নারী ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন। সমাবেশ ও মানববন্ধন থেকে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ছাড়া সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঘাতক-অপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।


প্রীতম দাস/এআর

মন্তব্য করুন: